(প্রিয়.কম) ফরাসি দার্শনিক ভলতেয়ার বলেছিলেন- তোমার মতামতের সঙ্গে আমি হয়তো একমত নাও হতে পারি, কিন্তু তোমার মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য আমি আমার জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করে যাবো। প্রায় তিনশ বছর আগে জন্ম নেওয়া এই দার্শনিক তার সময়ে যেই উক্তিটি করেছেন; এই চিন্তাই হচ্ছে আধুনিক গণতন্ত্রের ভিত্তি। কিন্তু আফসোস তিনশ বছর আগে জন্ম নেওয়া ভলতেয়ারের যতটুকু মুক্ত চিন্তা ছিল, যুগের সাথে সাথে আমরা স্রোতের বিপরীতে আরো বেশি কুসংস্কারাচ্ছন্ন হচ্ছি। এরই ধারাবাহিকতায় বেশ কয়েক বছর যাবত ভারতীয় উপমহাদেশের দেশগুলোতে সহিংসতা বাড়ছে, নির্বিচারে হত্যা হচ্ছে ভিন্ন মতাবলম্বী এবং মুক্তচিন্তার লেখকরা।

বাংলাদেশের সাথে সাথে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতেও বেড়েছে এ রকম হত্যার সংখ্যা। গত মঙ্গলবার এ রকমই এক হত্যাকাণ্ড ঘটে পশ্চিম বেঙ্গালুরুর রাজেশ্বরী নগরে। সেদিন নিজ বাসগৃহের বাইরে হত্যা করা হয় ভারতের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও অ্যাক্টিভিস্ট গৌরী লঙ্কেশকে। এর আগে ২০১৫ সালে একই কায়দায় খুন হয়েছিলেন প্রগতিশীল চিন্তাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক এমএম কালবুর্গি। হিন্দু ধর্মের সমালোচনা করায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করছেন দেশটির প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীরা। শুধু লঙ্কেশ বা কালবুর্গিই নন, দেশটিতে এর আগেও মুক্তচিন্তা এবং স্বাধীন মত প্রকাশের দায়ে হত্যা হতে হয়েছে মহারাষ্ট্রের বর্ষীয়াণ কম্যুনিস্ট নেতা গোবিন্দ পানেসারকে। তবে এখানেই থেমে থাকছে না, তালিকাটা বড় হচ্ছে ক্রমশ। প্রত্যেকটি হত্যার ধরণ একই হওয়ায় বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না যে হত্যার উদ্দেশ্যও ঠিক একই। বাংলাদেশ বা ভারতে মুক্তচিন্তাদের হত্যার উদ্দেশ্য মৌলবাদের অস্ত্রে নিজের স্বাধীন মতকে থামিয়ে দেওয়া।

অরুন্ধতী রায়

গৌরী লঙ্কেশের মৃত্যুর পর সামনে এসেছে আরো ভয়ঙ্কর তথ্য। হিন্দু মৌলবাদীদের এবারের টার্গেট লিস্টে আছে প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক এবং রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিস্ট অরুন্ধতী রায়, শোভা দে এবং সাগরিকা ঘোষের মতো ব্যক্তিত্বরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সে রকম বিস্ফোরিত তথ্যই দিয়েছেন বিক্রমাদিত্য রানা নামের এক ব্যক্তি।

সেই পোস্টে তিনি অনেকটা এ রকম বলেন- গৌরী লঙ্কেশের হত্যাকাণ্ডই শেষ নয়, বিরোধী জাতিয়তাবাদীদের বিরুদ্ধে এই হত্যাকাণ্ড চলতে থাকবে। শোভা দে, অরুন্ধতী রায়, সাগরিকা ঘোষ, কবিতা কৃষ্ণান, শেইলা রাশিদ ইত্যাদিসহ তালিকাটা আরো দীর্ঘ হোক এবং এর শুরুটা হওয়া উচিৎ বিশ্বাসঘাতক রাজনীতিবিদদের। একটা হিট লিস্ট তৈরি করে এদের সবগুলোকে শেষ করা হবে আশা করি।

ফেসবুক একটি মত প্রকাশের সামাজিক যোগাযো মাধ্যম। এখানে যে কেউই নিজের মত প্রকাশ করতে পারে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই, কিন্তু মতামত প্রকাশ করতে গিয়ে যদি কেউ কাউকে প্রকাশ্যে হুমকি দেন বা হত্যার তালিকা তৈরি করেন তবে প্রশ্ন জাগে- এই হত্যাকাণ্ড কি হিন্দু ডানপন্থি সাম্প্রদায়িক সংগঠন আরএসএস এর মৌলবাদীরা করেছে কি না! এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে দিল্লি পুলিশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তালিকায় থাকা সাংবাদিক সাগরিকা ঘোষ।

প্রিয় সাহিত্য/গোরা