(প্রিয়.কম) কর্মী ছাঁটাই ইস্যুতে এরিকসন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা করেছেন প্রতিষ্ঠানটির ফিল্ড সার্ভিসেস অপারেশন (এফএসও) বিভাগের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা মো. আবু নাসিম। আদালতে মামলাটির প্রথম শুনানির তারিখ আজ ২৮ মে রোববার ধার্য করা হলেও সেখানে এরিকসন কর্তৃপক্ষের কেউই উপস্থিত হননি। 

জানা গেছে, গত বছর ৩০ সেপ্টেম্বর অন্যান্যদের মতো এরিকসন বাংলাদেশের ফিল্ড সার্ভিসেস অপারেশন (এফএসও) বিভাগের মো. আবু নাসিমকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এরপর অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে তিনি নিজ উদ্যোগে এরিকসন বাংলাদেশ বরাবর চিঠি পাঠান। তবে তখন এরিকসন কর্তৃপক্ষ তার চিঠির কোনো জবাব দেননি। আবু নাসিম বলেছেন, ‘এরিকসনের ছাঁটাই প্রক্রিয়ার সঙ্গে শ্রম আইনের যে ব্যত্যয় ঘটেছে, তার ওপর ভিত্তি করেই তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

এরপর ৩ ডিসেম্বর ১৫ দিনের সময় দিয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। লিগ্যাল নোটিশ পাওয়ার পর এরিকসন বাংলাদেশের মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান (হেড অব এইচআর) মীর আওয়াল খাদেমুর রহমান ফোনে আবু নাসিমকে দেখা করতে বলেন। তবে নাসিম কয়েক দফায় দেখা করার চেষ্টা করার পর অবশেষে ২৭ ফেব্রুয়ারি আবু নাসিম এইচআর প্রধান খাদেমুর রহমানের সঙ্গে বসার সুযোগ পান। 

‘সে সময় খাদেমুর রহমান বলেন, তাদের নিয়মে কোনো কর্মীকে চাকরিচ্যুত করা হলে আলাদা করে সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার নিয়ম নেই। তবে তিনি এ বিষয়ে কিছু করা যায় কি না, সে ব্যাপারে চেষ্টা করে দেখবেন’, জানান আবু নাসিম।   

এদিকে, এরিকসনকে দেওয়া লিগ্যাল নোটিশের মেয়াদ ১৫ দিন পার হয়ে যাওয়ার পরেও কোনো সদুত্তর না পেয়ে মো. আবু নাসিম এরিকসনের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেন। গত ৩ এপ্রিল আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি শ্রম আদালতে মামলা করেন। আজ ২৮ মে রোববার মামলার প্রথম শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছিল। তবে এরিকসন থেকে কেউ মামলার শুনানিতে উপস্থিত হননি। 

শ্রম আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার শুনানিতে উপস্থিত থাকার জন্য এরিকসন বাংলাদেশকে চিঠি পাঠানো হলেও তারা কেউ উপস্থিত হননি। পরের শুনানিতেও যদি এরিকসনের কোনো কর্মকর্তা উপস্থিত না থাকেন, তাহলে তৃতীয় শুনানিতে সরাসরি আবু নাসিমের পক্ষে রায় চলে যাবে। এ ব্যাপারে আবু নাসিম ফোনে প্রিয়.কম-কে বলেছেন, ‘আমি ন্যয়বিচার পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী।’

নাসিম আরও জানান, এরিকসনকে তিনি লিগ্যাল নোটিশ দেওয়ার পর কর্তৃপক্ষ গত ২১ মে একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। প্যাকেজে লোকাল কন্ট্রাকচুয়াল এবং এফএসও কর্মীদের বাৎসরিক একটি বেসিক সেলারি দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া যারা তিন বছর, দুই বছর এবং এক বছর করে চাকরি করেছেন তারা যথাক্রমে ৬০, ৫২ এবং ২৬ দিনের লিভ অ্যানক্যাশমেন্ট সুবিধা পাবেন। তবে নাসিম এই প্যাকেজ নেওয়ার বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। 

প্রিয় সংবাদ/শান্ত