(প্রিয়.কম) সাম্প্রতিক সময়ে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত প্রায় ২১৪টি গ্রাম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। 

স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি পর্যালোচনার মাধ্যমে নিউইয়র্ক ভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরডব্লিউ’র পর্যবেক্ষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

এইচআরডব্লিউ দাবি করছে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দমন-নিপীড়ন অভিযানের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশটির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান জোরদার করার প্রেক্ষিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নিন্দা জানিয়ে প্রস্তাব পাশ করা দরকার বলে জানানো হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি সংস্থাটি আহ্বান জানায় যেন মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ওপর কার্যকর অবরোধ আরোপ করা হয়।

স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবিতে লাল দাগ দিয়ে চিহ্নিত গ্রামগুলো পুরোপুরি পুড়ে গেছে। ছবি: সংগৃহীত 

স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবিতে লাল দাগ দিয়ে চিহ্নিত গ্রামগুলোর ৯০ শতাংশেরও বেশি অংশ পুড়ে গেছে। ছবি: সংগৃহীত

স্যাটেলাই থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর সংগ্রহ করা ছবিগুলোতে ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। ধ্বংস হয়ে গেছে রাখাইনের মংডু এবং রাথেডং এলাকার হাজার-হাজার বাড়িঘর। এর আগেও স্যাটেলাইটের ছবি পর্যালোচনা করে রাখাইনে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের বর্ণনা দিয়েছিল হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

এইচআরডব্লিউ’র এশিয়া অঞ্চলের উপ-পরিচালক ফিল রবার্টসন বলেন, ‘রোহিঙ্গারা যাতে বাড়িঘরে পুনরায় ফিরতে না পারে সে জন্য বার্মার নিরাপত্তা বাহিনী গ্রামগুলো ধ্বংস করে দিচ্ছে। স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের প্রমাণ দেখা যাচ্ছে।’

গত ১১ আগস্টে রাখাইন রাজ্যে সেনা মোতায়েনের পর ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা ‘জাতিগত নিধন’ শুরু করে। ঘটনায় প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী। পুরানো পাঁচ লাখ রোহিঙ্গার সাথে নতুন অভিযানে ইতোমধ্যে যোগ হয়েছে আরও পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। সারা বিশ্বে ইউএনএইচসিআর কতৃক নিবন্ধিত ১৭.২ মিলিয়ন শরণার্থীর ৩০% এখন বাংলাদেশে। এরই মধ্যে চলমান রোহিঙ্গা ঢল অব্যাহত থাকলে শরণার্থীর এ সংখ্যা ১০ লাখে পৌঁছাতে পারে বলেও সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।

সূত্র: হিমউম্যান রাইটস ওয়াচ

প্রিয় সংবাদ/রিমন