(প্রিয়.কম) মানুষ কত বছর বয়স পর্যন্ত বাঁচতে পারে? কথায় কথায় আমরা তো বলিই শতবর্ষী মানুষের কথা। কিন্তু আসলে মানুষের সর্বোচ্চ আয়ু বা জীবনের সীমা কতদূর? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করেছে নেদারল্যান্ডের গবেষকেরা। অতীতের বিভিন্ন গবেষণা থেকে তারা প্রমাণ খুঁজে বের করেছে যে, মানুষের সর্বোচ্চ বয়সসীমা হলো ১১৫ বছর। 

টিলবার্গ ইউনিভার্সিটির প্রফেসর জন ইনমাল এবং তার সহকর্মীরা এ বিষয়ে কাজ করেন। বিগত ৩০ বছরে বিভিন্ন সময়ে মারা গেছেন এমন ৭৫,০০০ ডাচ মানুষের তথ্য তারা সংগ্রহ করেন। এসব তথ্য থেকে তারা বলছেন, মানুষের আয়ুর সর্বশেষ সীমা খুঁজে পেয়েছেন তারা। এই সীমা হলো নারীর জন্য ১১৫.৭ বছর এবং পুরুষের জন্য ১১৪.১ বছর। 

“গড়ে মানুষের আয়ু বেড়েছে সত্যি, কিন্তু সবচাইতে বেশি বয়সের সীমা বাড়েনি গত ৩০ বছরে,” ইনমাল AFP কে জানান। “বয়সের সর্বোচ্চ সীমাটা একই আছে।”

গত বছরে আমেরিকার গবেষকেরাও একই কথা বলেছিলেন, তাদের গবেষণায় দেখা যায়, অল্প কিছু বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া ১১৫ বছরই হলো মানুষের আয়ুর শেষ সীমা। 

“ডেমোগ্রাফার এবং বায়োলজিস্টরা  বলেন যে মানুষের আয়ু বৃদ্ধি পাওয়ার এই প্রক্রিয়া সামনে আগাতেই থাকবে,” বলেছিলেন আমেরিকান ওই গবেষণার একজন লেখক ইয়ান ভিগ। “কিন্তু আমাদের তথ্য বলছে আয়ুর সর্বোচ্চ সীমায় আমরা পৌঁছে গেছি, আর সেটা একই আছে ১৯৯০ দশক থেকে।”

পরবর্তীতে তিনি বিবিসিকে জানান, এই নিয়মের ব্যতিক্রম খুঁজতে অনেক কষ্ট করতে হবে আপনাকে। আমাদের এই পৃথিবীর মতো আরো ১০ হাজার পৃথিবী থাকলে সেখানে হয়তো একজন মানুষকে পাওয়া যাবে যার বয়স ১২৫ এর কোঠায় যাবে। অর্থাৎ, মানুষের বয়স ১১৫ এর কোঠা পার হবার সম্ভাবনা খুবই কম। 

আমেরিকার সেই গবেষণার বিরুদ্ধে প্রচুর প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, এক নেচার জার্নালেই এই গবেষণাকে সমালোচনা করে পাঁচটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। 

“নেচার ম্যাগাজিনে এরচাইতে খারাপ গবেষণা আমি আর কখনো দেখিনি,” বলেন জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর ডেমোগ্রাফিক রিসার্চ এর স্পেশালিস্ট জিম ভপেল। “এত সম্মানজনক একটি জার্নালে কীভাবে এটা প্রকাশ হলো তা ভেবে আমি হতবাক।”

ডাচ গবেষকদের নতুন এই গবেষণা সেই বিতর্ক থামাতে সক্ষম হবে, নাকি তাতে আরো তেল ঢালবে তা দেখার বিষয়। তবে একটি ব্যাপারে সব বিজ্ঞানীই একমত। আর তা হলো- পুষ্টি, জীবনযাত্রার মান এবং চিকিৎসাক্ষেত্রে উন্নতির কারণে সারা বিশ্বেই মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি হচ্ছে। 

সূত্র: IFLScience

সম্পাদনা : রুমানা বৈশাখী