(প্রিয়.কম) মুসলিমরা রাসূল (সা.)-কে যতটা ধার্মিক মনে করে, অমুসলিমরা তাকে ততটা ধর্মিক মনে করেন না। আর এই ধার্মিক মনে না করার পিছনে মূল কারণ হচ্ছে বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়াসহ নানা মাধ্যমে নবী (সা.)-কে নিয়ে অপপ্রচার ছড়ানো হয়। একজন অমুসলিম যদি একজন প্রকৃত মুসলিমের কাছ থেকে ইসলাম সম্পর্কে না জানে তাহলে তাদের মাঝে ইসলাম সম্পর্কে অপধারণাই বৃদ্ধি পাবে। ইসলাম ও মুসলমানদের সম্পর্কে মানুষকে সঠিক ধারণা দেওয়ার জন্যই মুসলিমদের বিশ্ব মিডিয়াতে কাজ করতে হবে এবং রাসূল (সা.)-এর আদর্শ ও শিক্ষার কথা প্রচার করতে হবে। রাসূল (সা.)-কে নিয়ে দুইটি অপপ্রচারের প্রকৃত জবাব-

১. রাসূল (সা.) নিজের ইচ্ছা ও খায়েশ পুর্ণ করার জন্যই একাধিক বিবাহ করেছিলেন- মিডিয়াতে এমনটা ছড়ানো হয়। এটা একেবারেই অসত্য কথা। প্রকৃত বিষয়টি হচ্ছে নবী (সা.) যে ১১ জন নারীকে বিবাহ করেছিলেন তাদের অধিকাংশই ছিলেন বিধবা। এই বিধবাদের সাহায্য করার জন্যই মূলত তিনি এই বিয়েগুলো করেছিলেন। এছাড়া অন্যান্য কারণেও তিনি বিয়ে করেছিলেন। সেই সময়ের সামাজিক কাঠামো আর আজকের দিনে অবকাঠামো এক নয়। সেই সময় বিধবাদের সামাজিক কোনো ভূমিকা ছিল না। সেই সময় নবী (সা.) একাধিক বিবাহের মাধ্যমে মূলত নারীদেরকে সামাজিক সুরক্ষা দিয়েছেন। যা সমাজে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে। সেই সমাজে তালাকপ্রাপ্ত নারীদের দ্বিতীয়বার বিয়ে করা  হতো না। তারা অবহেলিত অবস্থায় জীবন কাটাত। কিন্তু নবী (সা.) বিধবাদের বিয়ে করার মাধ্যমে সমাজের সেই প্রথাকে বাতিল করেছেন এবং সমাজে নারীদের সম্মান প্রতিষ্ঠা করেছেন। স্ত্রীগণের সাথে নবী (সা.)-এর আচরণ ছিল প্রেম, স্নেহ, সম্মান এবং মর্যাদার ভিত্তিতে। স্ত্রীদের সম্মানের বর্ণনা দিতে গিয়ে রাসূল (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি তারা যারা তাদের স্ত্রীদের কাছেও উত্তম। (তিরমিজি)

২. মুহাম্মদ যুদ্ধের নবী ছিলেন- এমটা প্রচার করা হয় কিন্তু এটাও একেবারেই অসত্য কথা। নবী (সা.) একজন শান্তিকামী মানুষ ছিলেন। সব সময় তিনি সংঘাতকে এড়িয়ে চলেছেন। তার ১২ বছর মক্কার জীবনীতে দেখতে পাই তিনি মানুষিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে কিন্তু কখনো তিনি হামলাকারীদের উপর আক্রমণ করতে যাননি। কুরআনের আয়াতে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, হে নবী! কোমলতা ও ক্ষমার পথ অবলম্বন করো। সৎকাজের উপদেশ দিতে থাকো এবং মূর্খদের সাথে বিতর্কে জড়িও না। (সূরা- আল আরাফ, আয়াত- ১৯৯)

পবিত্র কুরআনে আরো এসেছে, অনুমতি দেয়া হলো তাদেরকে যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হচ্ছে, কেননা তারা মজলুম এবং আল্লাহ অবশ্যই তাদেরকে সাহায্য করার ক্ষমতা রাখেন। (সুরা- হজ, আয়াত- ৩৯) এই আয়াতে যুদ্ধে অনুমতি দেওয়া হয়েছে প্রতিরক্ষার জন্য। আর রাসূল (সা.) যে কয়টি যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন, প্রায় সব কয়টিই ছিল প্রতিরক্ষামূলক যুদ্ধ। 

কুরআনে আরো এসেছে, তাদেরকে নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে অন্যায়ভাবে বের করে দেয়া হয়েছে শুধুমাত্র এ অপরাধে যে, তারা বলেছিল, আল্লাহ আমাদের রব। যদি আল্লাহ লোকদেরকে একের মাধ্যমে অন্যকে প্রতিহত করার ব্যবস্থা না করতেন, তাহলে যেখানে আল্লাহর নাম বেশি করে উচ্চারণ করা হয় সেসব আশ্রম, গীর্জা, ইবাদাতখানা ও মসজিদ ধ্বংস করে দেয়া হতো। আল্লাহ নিশ্চয়ই তাদেরকে সাহায্য করবেন যারা তাকে সাহায্য করবে। আল্লাহ বড়ই শক্তিশালী ও পরাক্রান্ত। (হজ্জ: ৪০)

এই আয়াতে যুদ্ধের একটি নিয়ম উদ্ধৃত করা হয়, যা যুদ্ধ, মন্দির, গীর্জা, সমাজগৃহ ও মসজিদগুলোকে রক্ষা করতে হবে- সর্বজনীন ধর্মীয় স্বাধীনতা! মুহাম্মাদ (সা.) এর দ্বারা পরিচালিত যুদ্ধের নিয়মাবলী কেবলমাত্র রক্ষাবাচক। সুতরাং মানুষ, প্রাণী বা সম্পত্তির ক্ষতি সাধন করতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। আমরা এখন একথা বলতে পারি যে নবী (সা.) নিজেদেরকে রক্ষা করার জন্য যুদ্ধ করেছেন। সুতরাং তিনি যুদ্ধবাজ  ছিলেন না।

সূত্র: মুসলিমস্টোরিজ.টপ

প্রিয় ইসলাম/আশরাফ