(প্রিয়.কম) মিয়ানমারে চলমান সহিংসতা থেকে জীবন বাঁচাতে গত দুই সপ্তাহে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এর মুখপাত্র। খবর রয়টার্সের।

০৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সংস্থার মুখপাত্র ভিভিয়ান টান জানান, গত বৃহস্পতিবারে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৪ হাজার। কিন্তু নতুন নতুন স্থানে রোহিঙ্গাদের অবস্থানের ফলে সেই সংখ্যা এখন বেড়ে গেছে।

teknaf-rohingya-08.09.17

টেকনাফের কুতুপালং সীমান্ত দিয়ে হাজারো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। ছবি: ফোকাস বাংলা

তিনি বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে এতো মানুষ এসেছে তা বলা যাবে না, বরং আমরা নতুন নতুন স্থান পেয়েছি যেখানে রোহিঙ্গারা অবস্থান করছেন। এসব জায়গা সম্পর্কে আমরা আগে অবহিত ছিলাম না।’

কক্সবাজারের কুতুপালং থেকে শুরু করে থাইংখালী পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পাহাড়ে পাহাড়ে বাঁশ আর পলিথিনের অসংখ্য ঝুপড়ি গড়ে তুলেছেন এই রোহিঙ্গারা। তাদের নতুন বসতি দেখা গেছে টেকনাফ সীমান্তবর্তী হোয়াইক্যং ইউনিয়নসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকাতেও।

teknaf-rohongya

টেকনাফের কুতুপালং সীমান্ত দিয়ে হাজারো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। ছবি: ফোকাস বাংলা

মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিপীড়ন চলে আসছে কয়েক দশক ধরে। বিভিন্ন সময়ে সহিংসতার মুখে সেখান থেকে পালিয়ে এসে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে।

এই দফায় ৩ লাখের মতো রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আসতে পারেন বলে দুদিন আগেই ধারণা দিয়েছিলেন জাতিসংঘ কর্মকর্তারা। 

teknaf-rohingya

টেকনাফের কুতুপালং সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যরা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। ছবি: ফোকাস বাংলা

এত বিশাল সংখ্যক শরনার্থীর বেপারে উদ্বেগ জানিয়ে ভিভিয়ান টান বলেন, ‘শরণার্থীদের এই সংখ্যা উদ্বেগজনক। এর অর্থ হল, সঙ্কট মোকাবেলায় আমাদের আরও উদ্যোগী হতে হবে এবং মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে।’

প্রিয় সংবাদ/হিরা/কামরুল