(প্রিয়.কম) বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে অবস্থান নেওয়া প্রায় ১৫ হাজার রোহিঙ্গাকে নিবন্ধনের আওতায় আনা গেছে। ৩৫ হাজারেরও বেশি সংখ্যক রোহিঙ্গাকে এখনও নিবন্ধনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। তবে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে শূন্যরেখার অস্থায়ী ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

১৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বান্দরবানের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য ও জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক বলেন, ‘ঘুনধুম ইউনিয়নের তুমব্রু কোণা পাড়া, জলপাই তলি ও পাহাড় পাড়া, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের বড় শণখোলা, সাপমারা ঝিরি ও ফুলতলি এ ছয়টি স্থানে মোট ৯ হাজার ১৭৩টি পরিবারের ৫০ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন। এদের মধ্যে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নে ও ঘুনধুমের পাহাড় পাড়ার ৮০০ পরিবারসহ ২ হাজার ৭৭৩ পরিবারের ১৫ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গাকে নিবন্ধিত করা হয়েছে।’

জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘ঘুনধুম ইউনিয়নে অধিকাংশকেই এখনও নিবন্ধনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। সেখানে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাহাড় পাড়ায় প্রায় ৪ হাজার পরিবারে ২০ হাজার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে। শরণার্থী ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনার জন্য তাদের গত রোববার থেকে উখিয়ায় সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক রয়েছে।’

অন্যদিকে, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান জানান, ‘সীমান্তের ওপারে মাইন বিস্ফোরণে নয়জন নিহত ও ১০ জনের আহত হয়েছে। ঘটনাগুলো ঘটার পর এখন পরিস্তিতি কিছুটা শান্ত রয়েছে। বিশৃঙ্খলা রোধে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান, সেনাবাহিনীর ৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের প্রতিনিধি মেজর শফিকুর রহমান, সিভিল সার্জন অংসুইপ্রু মারমা, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মফিদুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মাকসুদ চৌধুরী প্রমুখ। 

প্রিয় সংবাদ/শান্ত