(প্রিয়.কম) প্রিয় পাঠক, আপনাদের জন্য রয়েছে আমাদের এ নতুন আয়োজন। এখানে 'দ্য সিল্ক রোড পার্টনারশিপ' এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা নাইজেল কাম্বারল্যান্ড লিখিত একটি বইয়ের সাথে আপনাদের পরিচয় করানো হবে। বইটির শিরোনাম,  'হান্ড্রেড থিংস সাকসেসফুল পিপল ডুলিটল এক্সারসাইজেস ফর সাকসেসফুল লিভিং। এবং আমরা বইটি অনুবাদ করছি "সফল ব্যক্তিদের ১০০ জীবনচর্চাশিরোনামে। সপ্তাহব্যাপী এই আয়োজনে প্রতিদিন এই বই থেকে একটি করে বিষয় আলোচনা করা হবে।আজকের আয়োজনে জেনে নিন সফল ব্যক্তিদের করা ৪৯ নম্বর বিষয়টি সম্পর্কে। 

অনুশীলন ৪৯- 'বাবা-মায়ের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করুন'  

বাবা-মায়ের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করা ছাড়া আপনি কখনোই সুস্থ এবং সফল জীবনযাপন করতে পারবেন না। তারা আমাদের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধারণ করে আছেন। এটা ঠিক যে, আমরা যেমন বন্ধু-বান্ধব পছন্দ করি সেভাবে বাবা-মাকে পছন্দ করে নেওয়া যায় না। যাহোক, আপনি যদি বাবা কিংবা মা হন, আপনি বুঝতে পারবেন যে এটি মোটেও সহজ কোন কাজ নয়। সন্তান প্রতিপালনের কোন নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। আপনি যদি বাবা-মা না হয়ে থাকেন তবে অন্য কারোর থেকে উপদেশ নিন। একবার যদি আপনি অনুধাবন করে থাকেন যে তারা আপনার জন্য কী কী করেছেন, তবে আপনি খুব সহজেই যেকোন নেতিবাচকতা মন থেকে মুছে ফেলতে পারবেন।

পৃথিবীর যে কারো থেকে আপনার বাবা-মা আপনাকে বেশি ভালোবাসেন এবং মন থেকে বুঝতে পারেন। আপনি যা-ই হোন না কেন কিংবা যা-ই করেন না কেন, তারা মন থেকে মুছে ফেলবেন না কখনোই আপনাকে। তারা আপনার জীবনের সর্বশ্রেষ্ট উপদেশদাতা এবং সাহায্যকারী। আপনি তাদের সঙ্গে আপনার সমস্যা, ভয়, আশঙ্কা, আশা-ভরসা সবকিছুই আলোচনা করতে পারবেন। আপনার জীবনকে যেকোন ছাঁচে সাজাতে বাবা-মায়ের তুলনা হয়না এবং তারাই আপনাকে পদে পদে যেকোন ভুল পথে পা দেওয়া থেকে বাঁচিয়ে রাখবেন।

আপনি যদি তাদের প্রশ্ন করেন এবং মন দিয়ে তাদের কথা শোনেন, তাহলে তারাই আপনাকে সম্পর্ক, অর্থ, সম্পদ সব ব্যাপারে দারুণ সাহায্য করবেন।

খোলা মনে তাদের সাথে কথা বলুন

নিজ মনের যাবতীয় শংকা দূর করে বাবা-মাকে একটু সময় দিন। তারা যদি আপনার সঙ্গে একটু কর্কশ ব্যবহার করেও থাকেন, ক্ষমা করে দিন তাদের।

মাঝেমধ্যে বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার জন্য হলেও আপনাকে আশেপাশের পরিবেশ খোলামেলা করে দেওয়া উচিৎ। ধরে নিন, আজকের দিনটাই সময় আছে আপনার কাছে। বহুদিন ধরেই যে কথাটা মনে জমিয়ে রেখেছিলেন, তা আজ বলেই দিন। 

তাদের সময় দিন

বাবা-মায়ের দৃষ্টিকোণ থেকে যেকোন কিছু বোঝার চেষ্টা করুন। আপনি তাদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে একটু বেশি সময় কাটালে কী তারা খুশি হন? তারা কি আপনার সঙ্গে কথা বললে খুশি হন? আমি যেহেতু বড় বড় সন্তানের বাবা হয়েছি, আমি জেনেছি যে বাবা-মা মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হতে পছন্দ করেন। কোন কিছুই তাদের জন্য যথেষ্ট নয়।

বাবা-মাকে এটি জিজ্ঞেস করেন না যে 'কতক্ষণ আমি থাকলে বা কথা বললে তোমার ভালো লাগবে?' বরং নিজেকে জিজ্ঞেস করুন কতক্ষণ তাদের সঙ্গে আপনি সময় কাটাতে চান। এতে কোন বাঁধাধরা নিয়ম-কানুন নেই। কেউ কেউ প্রতিদিন বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে শান্তি পায় আবার কেউবা মাসে একবার। মনে রাখবেন, অগোছালো কয়েক ঘণ্টা আলাপের চাইতে অর্থপূর্ণ কিছু মুহুর্তের আলাপ অধিক যুক্তিসঙ্গত। 

সম্পাদনা: কে এন দেয়া