(কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুখালী থেকে) রাখাইনের মৃত্যু’র মূখ থেকে বেঁচে আসা লাখো রোহিঙ্গার অবস্থান এখন কক্সবাজার জেলার টেকনাফের উপজেলার উখিয়ায়। অব্যাহত রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশে ঢল খেলছে উখিয়া জুড়ে। কতুপালং ও বালুখালী নতুন রিফিওজি ক্যাম্পেও তিল ধারনের ঠাঁই নেই। নির্ঘুম রাত কাটা মানুষগুলোর এখন ঠাঁয় হচ্ছে রাস্তার পাশে। খাবার নাইবা জুটলো কিন্তু আশ্রয় ছাড়তে নারাজ তারা। আবার পালিয়ে আসা নতুন রোহিঙ্গাদের দেখে পুরনো রোহিঙ্গারা পুশব্যাকের ভয়ে আছেন। কখন তাদের আবার স্বদেশে ফেরত পাঠায় এদেশের সরকার। 

স্থানীয় জনপ্রতিনিদিদের ছত্র-ছায়ার রয়েছে পুরনো রোহিঙ্গারা। স্থানীয়দের কাজে সারা দিয়ে তারা জনপ্রিয়ও হয়ে উঠেছে তাদের কাছে। অল্প টাকার পারিশ্রমিক দিয়ে স্থানীয়রা তাদের কাজ করায়।

পুরনোরা মনে করছে এদের (নতুনদের) কারণে যদি তাদের কোনো সমস্যা হয়? একারণে তারা নতুনদের মোঠেও সয্য করতে পারছে না। উখিয়ার কুতুপালং পার হয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। গন্তব্যে টেকনাফ। অপেক্ষা করছিলাম গাড়ির জন্য। কিন্তু একটি গাড়িতেও সিট খালি নেই। হাঁটতে লাগলাম। ঠিক সেই মুহুর্তে আজাদ নামের একজন দৌড়ে আসলো। তার কুলে একটি শিশু সন্তান। ভাই, এক্কেনা চলন না, আরারে-তো থাইক-তো নদের। আগে আইসেদে এগুনে আরারে বিশি হষ্ট দের। (ভাই, একটু চলেন, আমাদের থাকতে দিচ্ছে না। আগে যারা এসেছে তারা বেশি কষ্ঠ দেয়) কথাগুলো বলছিলেন আজাদ। রাস্তার পাশে তীরপাল দিয়ে তাবুর ছাউনি তৈরি করছিলেন পঞ্চাশোর্ধ রফিকুল। জানতে চাইলে তিনি বলেন, আজ সকালে (রোববার) এসেছি। প্রথমে ওই পাহাড়ের নিচে ঘর তৈরি করছিলাম। সেখানে পুরনো রোহিঙ্গারা বাঁধা দেয়।

rohingy-IN-Coxsbazar

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর লোকজন তাদের কষ্টের কথা সংবাদ কর্মীদের কাছে বর্ণনা করছেন। ছবি: সংগৃহীত

তিনি বলেন, তারাও অনেক আগে বাংরাদেশে এসেছে। তাদের সমস্যার কথা বলে আমাকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়। বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে ঘর নির্মাণ করছি। টিভি টাওয়ারের ডান পাশে সি-ব্লক। পাহাড়ের উপরে। একটু হেঁটে গেলাম রিফিওজি ক্যাম্পে। এ ক্যাম্পে প্রায় বিশ বছর আগে আসা রোহিঙ্গারাও রয়েছে। পুরনো আর নতুন চেনার কোন উপায় নেই।

২০০৪ সালে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা আমেনা বেগমে’র সঙ্গে প্রিয়.কমে’র এ প্রতিবেদকের কথা হয়। এই ক্যাম্পে খালা নামেই তিনি বেশ পরিচিত। তার মতে, আমরা দীর্ঘ ১৪ বছর থেকে এদেশে আছি। এখানে এসে দু’টি মেয়ে বিয়ে দিয়েছি। ছেলের জন্য বউ এনেছি। যেখানে আমরা থাকতে কষ্ট হয় সেখানে তারা এসে নতুন সমস্যা সৃষ্টি করছে। আমরা এখানে ভালো আছি। কাজ কর্মরও ভালো পাওয়া যায়।

একটু হেঁটে ঢুকলাম অন্য একটি বাড়িতে। সেখানে দেখা হয় আবদুল মালেকের সঙ্গে। তিনি ওই পরিবারের কর্তা। ২০১১ সালে তিনি বাংলাদেশে পাড়ি জমান। তার ঘরে সাতজন সদস্য রয়েছে। বড় মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন। দুই ছেলের জন্য বউ এনেছেন। শুনলাম নতুনদের আপনারা থাকতে দিচ্ছেন না’ এমন প্রশ্নে মালেক বলেন, এরাতো এখন আমাদের কাটাঁ হয়ে গেছে। আমরা অনেক কষ্ট করে এখানে থাকতে পেরেছি। সেখানে তারা আসতে থাকলে হয়তো আমাদেরকে আবার পুশব্যাক করে দিতে পারে সরকার। তাদের সঙ্গে আমরাও ভয়ের মধ্য আছি।

স্থানীয় বাসিন্দা আরাফত এলাহি প্রিয়.কম-কে বলেন, আমাদের আশেপাশে অন্তত ১ হাজারের মতো রোহিঙ্গা পরিবার রয়েছে। গত কয়েকদিনে আমাদের সীমানার ভেতরেও জায়গা করে দিয়েছি নতুন অনুপ্রবেশকারীদের। তবে পূর্বে যারা রয়েছে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন কাজে তাদের ডাক দিলে পাওয়া যায় বলেন তিনি।

প্রিয় সংবাদ/কামরুল